Posts

চিঠি=বাঁশ (৭ম পর্ব)

Image
সকালবেলা হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। টাইম দেখার জন্য মোবাইল টা হাতে নিয়ে দেখি একটা ম্যাসেজ। ম্যাসেজটা ছিল সরনের। ম্যাসেজে লেখা ছিল, "কাল Practical এক্সামে টাইম মত চলে আসিস।" ম্যাসেজটা রাতে পাঠিয়েছে। দেখেই মনে পরে গেল, আরেহ আজ তো ১০ টায় এক্সাম আছে। কিচ্ছু পড়িও নাই আবার কোন প্র্যাকটিক্যাল আঁকাইও নাই। হায় হায়। কি যে করি। মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তখন বাজে সকাল ৬ টা। . উরাধুরাভাবে পড়া শুরু করে দিলাম। আজ Higher Math। খাতায় আঁকা আঁকিও করলাম। সব করতে করতে ৯ টা বেজে গেল। তাড়াতাড়ি উঠে ব্রাশ করেই বের হয়ে পরলাম। অবশেষে একদিন অন্তত ঠিক টাইমে কলেজে পৌঁছেছি। . কিন্তু ক্লাসে যেয়ে দেখি সবাই চলে আসছে। ব্যাপার কি? টাইম দেখালাম, এখনো ১৫ মিনিট বাকি আছে। ব্যাপার না। সবাই হয়তো আগেই চলে আসছে। এমনিতেও ক্লাসে কোন,স্যার ছিল না। ক্লাসে। ঢুকতেই সেই পুরানো নামে (লেট লতিফ) ডাক দিলো শান্ত। - ওই হ্লা, আইজ পুরাই টাইম মত আইছি। ১৫ মিনিট আগে আইছি। হুম। (আমি) - বেটা বেকুব, তুই ৪৫ মিনিট লেট। - কি!!!! এক্সাম কয়টা থেকে ছিল? - ১০ টা। আর এখন বাজে ১০:৪৫ - মোবাইল বের করে দেখি ৯:৪৫ বাজে। (তখন আরো একটা কথা মনে পরলো, আমি তো গতকাল...

চিঠি=বাঁশ (৬ষ্ঠ পর্ব)

Image
সকাল সকাল চলে গেলাম তিশার সাথে দেখা করতে। আমি তো রেগুলারই আধা ঘন্টা লেট করি, এই আধা ঘন্টা রেগুলার তিশা আমার জন্যে ওয়েট করে। আর দেখা হওয়ার পর রাগারাগি করে। আজ একটু আগেই বের হইছি যেন লেট না হয়। প্রায় চলেই আসছি এমন টাইমে মনে পরলো, আমি তো ফুল আনতে ভুলে গেছি। হায় হায়!!!! আবার বাসায় আসবে কে? এদিকে আমার গাছের ফুল ওর খুব পছন্দ। কেনা ফুল নিয়ে গেলে তো খুব রাগ করবে। কারন ও অপচয় পছন্দ করে না। . তাতে কি?  কেনা ছাড়া উপায় নাই। আজ নাহয় মিথ্যা বলে দিবো। 😜 . ফুল নিয়ে যেতে যেতে ঠিক ৩৭ মিনিট লেট। আজ এত আগে বের হয়েও এত লেট কিভাবে হল বুঝলাম না। কপালটাই খারাপ। আমাকে দেখে তিশা রাগে চোখ লাল করে আমাকে বলছে, - আজও লেট?!!! - নাহ আসলে ইচ্ছা করে করিনি। - আপনি প্রতিদিনই অনিচ্ছাকৃত ভাবেই লেট করেন। - না মানে, - আচ্ছা, আপনার জন্মদিনও কি লেটে নাকি? - ওয়াও!!!! তুমি কিভাবে জানো। আমি সত্যিই ১০ মাস ১১ দিনে হইছি। 😲😲 - What!!!!!  - হ্যা। আম্মু এটাই বলে। 😁😁 - আপনাকে দিয়ে কিছুই হবে না। হুহ - উহু। হবে। একটা কাজ হবে। দেখবা? - কি? . এবার এক হাটু গেড়ে ফুলের তোড়া বের করে ওকে প্রপোজ করলাম। আমি তো সিওর ও অনেক খুশি হব...

চিঠি=বাঁশ (৫ম পর্ব)

Image
বাসায় এসে রেস্ট নিয়ে একটু পরেই বের হলাম সরনের বাসার উদ্দেশ্যে। ওর বাসায় যেয়ে ওর সাথে মারামারি (মানে আসলে ব্যাপারটা আসল মারামারি না। বলা যায় একটু মারামারির মত মজা) করে চলে আসলাম। এর মাঝে যে আমি ওর মাথার একটা চুল ছিঁড়ে আনছি এটা ও খেয়ালই করে নাই। এবার হবে আসল কাজ। 😁😁😁 . অনেকের মুখেই শুনেছিলাম যে, এইরকম চুল নিয়ে নাকি কি কি করলে মোটামুটি অনেক কিছু করা যায়। তাই আমি ভাবলাম যদি ওদের চুল দিয়ে ওদের মিল করাতে পারি তাহলে তো সেই একটা কাজ হবে। খুব অল্প সময়ে অল্প পরিশ্রমে আমার উদ্দেশ্য সফল। 😁✌ . কিন্তু সমস্যা টা অন্য জায়গায়। আমি আসলে জানি না যে এই কাজ টা কে করতে পারে। তাও ঘুরতে থাকলাম এদিকওদিক। কিন্তু, এইভাবে কি আর কাজ হয়?  বার বার কি আর আন্দাজে গুলি লাগে? . তাও মনে হল, এবার আন্দাজেই গুলি টা লেগে গেছে। দেখলাম পাগলের মত দেখতে এক লোক সামনেই একটা গাছের নিচে বসে আছে। গেলাম তার কাছে। সে খুব গভীর দৃষ্টিতে আমাকে দেখে নিয়ে বলল, - কিছু লাগবে তোর? . কথার মধ্যেই কেমন কবিরাজ কবিরাজ ভাব। একেই তো দরকার। 😁😁 . - আসলে, একটা খুব গোপন সমস্যা আছে আমার। সমাধান করে দিতে পারবেন? - কি সমস্যা? - আস...

চিঠি=বাঁশ (৪র্থ পর্ব)

Image
চলে তো আসলাম। কিন্তু আমি খুব ভালভাবেই বুঝতে পারছিলাম যে, বিষয় টা কারো সাথে শেয়ার করে তারপর বুদ্ধি করে এই বিপদ থেকে উদ্ধার হতে হবে। এ ছাড়া সম্ভব না। কিন্তু কিভাবে? অনেক চিন্তার পর দেখলাম, রাইসার সম্পর্কে আমার চেনাজানা মানুষগুলার মধ্যে তিশা সব থেকে ভাল জানে। তাই তিশার থেকে বুদ্ধি নিলে সব থেকে ভাল হবে। আর সফল হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি। কিন্তু কিভাবে বলবো তিশাকে?  কিভাবে ?  কিভাবে? কিভাবে? . সব শেষে মন স্থির করলাম, আর ঠিক করলাম আজ রাতেই তিশাকে সব বলবো। তাতে যা হয় হবে। বোকা মেয়েটার সাথে আর আমি নাটক করতে পারছি না। নিজের বিবেকে বাধা দিচ্ছে। কারন আমিও তো ওকে মন থেকেই ভালবাসি। . কল দিলাম তিশাকে। - হ্যালো (তিশা) - কেমন আছো? - ভাল। আপনি কেমন আছেন? - আমিও ভাল আছি। - আজ আপনাকে অনেক চিন্তিত মনে হচ্ছে। কি ব্যাপার? - আসলে তোমার সাথে কিছু জরুরি কথা আছে। - আচ্ছা, বলেন। - না। আসলে সামনা-সমনি বলতে হবে। একটু দেখা করতে পারবা? - সিরিয়াস কোন বিষয়? - হুম। - আচ্ছা, কখন আর কোথায় দেখা করতে হবে? . এভাবে আমরা জায়গা এবং টাম ফিক্সড করে বিকালেই দেখা কর‍তে গেলাম। . বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিট। আমি আর তিশা সামনাসাম...

চিঠি=বাঁশ (৩য় পর্ব)

Image
রাইসা এবং তিশা ২ জনেই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আর আমি একবার রাইসার দিকে তাকাই আবার তিশার দিকে তাকাই। আর মনে মনে ভাবতেছিলাম, আল্লাহ তুমি আমারে এ কোন প্যাচে ফেলে দিলা। কি অন্যায় করছিলাম আমি?  আমার সাথেই এইরকম কেন হয় আল্লাহ,  কেন? . তিশা কি ভাবলো কে জানে, হঠাত বলে উঠলো, - ভাইয়া আপনার নাম কি? - এ্যা,  কি? (নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। তাই আবার জিজ্ঞাসা করলাম) - আপনার নাম কি ভাইয়া? - অনিক . এবার মনে মনে ভাবতে লাগলাম, আল্লাহ এগুলা শোনার আগে তুমি আমারে উঠাইয়া নিলা না কেন?  আমারে উঠাইয়া নাও আল্লাহ আমারে উঠাইয়া নাও। এইগুলা মনে মনে বলতে বলতেই হঠাত মনে হল, কেউ আমার পশ্চাদদেশে সজোরে আঘাত করলো। আমি কিছুটা দূরে ছিটকে গিয়ে পরলাম। এর পর আর কিছু মনে নাই। . চোখ খুলেই মনে হল আমি কোথাও শুয়ে আছি, আর কেউ আমাকে ভয়ংকর চোখে ভাল করে দেখছেন। এটা দেখেই দিলাম এক চিৎকার।  (আসলে চোরের মন পুলিশ পুলিশ। ভাবছি রাইসাই মনে হয় আমারে  কিডন্যাপ করাইছে) . ভয়ংকর সেই লোকটা হঠাত বলে উঠলো, "নার্স, একটা ঘুমের ইঞ্জেকশন নিয়ে আসেন তো"। আমি বুঝে গেলাম এটা একটা ডাক্তার। অন্যদিকে, ই...

চিঠি=বাঁশ (২য় পর্ব)

Image
ক্লান্ত শরীরে বাসায় ফিরে মোবাইল টা হাতে নিয়ে দেখি ম্যাসেজ আসছে। এটা কোন বড় ব্যাপার না। প্রতিদিনই আমার  মোবাইলে কমপক্ষে ৩০-৩৫ টা ম্যাসেজ আসেই। ওইগুলা সব জিপি আর টেলিটক বাবার দয়া। তাই আর মাথা ঘামাতে ইচ্ছা হল না। মোবাইলটা রেখে ওয়াশরুমে যাচ্ছিলাম ঠিক তখন মনে পরে গেল, ম্যাসেজ টা তো রাইসাও দিতে পারে। ভয়ে কাজ শেষ আমার। দৌড়ে গিয়ে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি ৫০০ টাকা ফ্লেক্সিলোড!!!!!!!!!! চোখ আমার কপালে। এত টাকা তো আমি সারা বছরেও আমার মোবাইলে লোড দেই না।  কারন ১০ টাকা লোড দিলে সেই টাকার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় কিন্তু টাকা শেষ হয় না । মনে আনন্দ হইতে যাইয়াও হইলো না। কারন রাইসার কথা মনে পরে গেল। আমি পুরাই সিওর এই টাকা ও ছাড়া আর কেউ দেয় নাই। . এখন তো নিজের কাছে নিজেকে অনেক ছোট লাগা শুরু হল। শেষ পর্যন্ত একটা মেয়ে আমার মোবাইলে টাকা লোড দিয়ে দিলো।  ছিঃ ছিঃ ছিঃ..... এর থেকে লজ্জাজনক বিষয় আর কি হতে পারে? . এখন আর কিছুই করার নাই, টাকাগুলা ওকে ফেরত দিতে হবে। হাতে দিলে নিবে না আমি ১১০% শিওর, সাথে মাইরও  খাইতে পারি। তাই ফ্লেক্সিলোডই দিতে হবে। কিন্তু সমস্যা হল, আমার কাছে তো টাকা নাই। কিছুদিন...

চিঠি=বাঁশ (১ম পর্ব)

Image
অনেকদিন ধরেই ভাবছি ওকে প্রপোজ করবো। কিন্তু সাহস পাচ্ছিলাম না। কিভাবে করবো তাও বুঝতে পারছিলাম না। তাও প্লান করে ২ টা চিঠি লিখে নিয়ে আসছি। আসলে ২ টা চিঠিতে একই জিনিস লেখা, মানে একটা কবিতা লেখা। কিন্তু একই কবিতা ২ টা কাগজে লেখার কারন হল, আগেরদিন একটা কবিতা লিখে আনছিলাম কিন্তু হারিয়ে ফেলছি। দিতে পারি নাই। তাই আজ ২ টা কাগজে লিখছি যেন একটা হারালেও আরেকটা থাকে। . মেয়েটা এদিকেই আসছে। আমি গেলাম মেয়েটার কাছে। ওকে বললাম, - এইযে তুমি (কাপা কাপা গলায়) - আমাকে বলছেন?  - না মানে, হ্যা। - কি, বলেন। আমার ক্লাস আছে। তারাতারি যেতে হবে। . আমি আর কিচ্ছু না বলে চুপচাপ ব্যাগ থেকে চিঠিটা বের করে মেয়েটার হাতে দিয়ে বললাম, "বাসায় যেয়ে একা একা পড়বা" . এটা বলেই একরকম দৌরে পালানোর মতই পালিয়ে গেলাম। আল্লাহই জানেন কাল কি উত্তর পাবো। আর চিঠিতে যে কবিতা টা লিখেছিলাম সেটা হল, . তোমায় নিয়ে ভাবি, তোমার ছবি আঁকি রঙ তুলি নেই আমার তবু দেই না ফাকি। মনের মাঝে আঁকি তোমায় অনেক যত্ন করে ভেবো না আবার আছি আমি গভীর ঘুমের ঘোরে। . প্রথমবার দেখে তোমায় হয়েছি পাগল এটা শুনে ভেবো না আবার আমার পা গোল, পা আমার লম্বা, ...